এমএস ওয়ার্ড এর কাজ | MS Word Tutorial in Bengali

আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সুপ্রিয় ভাই ও বোনেরা, আশা করি অনেক ভালো আছেন।

আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি মাইক্রোসফট অফিস ওয়ার্ড এর কাজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। 

আমাদের এই ওয়েবসাইটে এর আগে এক্সেল এর কাজ শিখার বাংলা টিউটরিয়াল পোস্ট করা হয়েছে। 

আপনি যদি এক্সেল এর কাজ ও শিখতে চান তবে এই পেজের মাধ্যমে শিখতে পারবেন।

এখানে আমরা এক্সেল এর কাজ ও শেখার নিয়ম দেখাবো। 

আপনাকে তার জন্য নিচে দেওয়া লিংকে ক্লিক করতে হবে। নিচের লিংকে ক্লিক করে বিস্তারিত দেখুন :


মাইক্রোসফট ওয়ার্ড কি?

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড হচ্ছে একটি ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়ার যা মাইক্রোসফট দ্বারা প্রস্তুত করা হয়েছে। 

মাইক্রোসফট অফিস ২৫ অক্টোবর ১৯৮৩ সালে মাল্টিটুল ওয়ার্ড নামে জেনিক্স সিষ্টেমের জন্য প্রথম রিলিজ করা হয়েছিল। 

তারপরে ১৯৯০ সালে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বাজারে এই মাইক্রোসফট ওয়ার্ড প্রকাশ করা হয়।


আমরা জানি যে, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড বিভিন্ন ভার্সনে রিলিজ হয়েছে যেমন : 
  • ওয়ার্ড- ২০০৩, 
  • ওয়ার্ড- ২০০৭, 
  • ওয়ার্ড- ২০১০, 
  • ওয়ার্ড- ২০১৫, 
২০১৬ হলো সর্বশেষ চলমান মাইক্রোসফট অফিস ওয়ার্ড। বর্তমানে উক্ত ভার্সন গুলোর মাধ্যে এমএস ওয়ার্ডের সফটওয়ার এর কাজ করা হয়।

মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের কাজ কি?

মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের মূলত কাজ হলো টাইপিং পার্ট যেমন: ইংরেজি টাইপিং ও বাংলা টাইপিং ইত্যাদি। 

এমএস ওয়ার্ড এর মাধ্যমে আমরা চিঠিপত্র, প্রত্যয়নপত্র, জীবন বৃত্তান্ত, দলিলের কাজ এবং অফিসিয়াল যাবতীয় টাইপিং কাজ করে প্রিন্ট করা। 


উক্ত কাজের পাশা পাশি মোটা মোটি ভালো কোয়ালিটর ডিজাইন করা, বই তৈরি করা, স্কুল, কলেজের প্রশ্ন তৈরি ইত্যাদি করাসহ বিভিন্ন কাজ করা যায়। 

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড গুরুত্বপূর্ণ একটি সফটওয়ার এবং এটি সহজ একটি প্রোগ্রাম যা সারা বিশ্বে প্রচলিত আছে।

আমাদের দেশে মোটা মোটি কম্পিউটার জানা অনেকে মানুষ দোকান দিয়ে শুধু এমএস ওয়ার্ডের টাইপিং কাজ করে উন্নতি করছে। 


আপনি যদি মোটা মোটি টাইপ করতে পারেন আপনিও দোকান বা অফিসিয়াল চাকরির জন্য যোগ্যতা অর্জন করবেন। 

কম্পিউটার/ল্যাপটপ এ এমএস ওয়ার্ড শিখতে পারবেন আমাদের এই আর্টিকেল গুলো বিস্তারিত পড়ার মাধ্যমে। 

আমরা আপনাকে এমএস ওয়ার্ডের সকল কাজ আপনার সামনে তুলে ধরবো ঘরে বসে, আমাদের লেখা পড়ে সহজেই শিখতে পারবেন। 

তো চলুন বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়া যাক। 


এমএস ওয়ার্ডের পরিচয় :

এমএস ওয়ার্ড এর পেজ কে বলা হয় ডকুমেন্ট। এই ডকুমেন্ট এর কিছু পরিচয় আছে যা আপনাকে জানতে হবে নিচে দেখুন : 

এমএস ওয়ার্ডের মেনুবার সমূহঃ
  • অফিস বাটন/Office Button 
  • হোম/ Home Manu
  • ইনসার্ট/Insert Manu
  • পেজ লেআউট/Page Layout Manu
  • মেইলিং/Mailings Manu
  • রিভিউ/Review Manu
  • ভিউ/View Manu
উপরোক্ত মেনুবার গুলো নিয়েই মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের সকল কাজ। 

উপরের প্রতিটি মেনুবার এর ভেতরে বিভিন্ন অপশন থাকে সেগুলোকে বলা হয় সাব-মেনু।

নিচে মেনুবার ও সাব-মেনুর কাজ বিশ্লেষণ করা হলো :

অফিস বাটন/Office Button : 
  • New- সাবমেনুর মাধ্যমে নতুন ডকুমেন্ট নেওয়া হয়। (কিবোর্ডে সর্টকাট Ctrl+N)
  • Open- সাবমেনুর মাধ্যমে সেভ করা ফাইল অপেন করা হয়। (কিবোর্ডে সর্টকাট Ctrl+O)
  • Save- সাবমেনুর মাধ্যমে টাইপিং করা ডকুমেন্ট নাম দিয়ে ফাইল তৈরি করা হয় (কিবোর্ডে সর্টকাট Ctrl+S)
  • Save-as- সাবমেনুর মাধ্যমে সেভ করা ডকুমেন্টে পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়। 
  • Print- সাবমেনুর মাধ্যমে টাইপিং করা ডকুমেন্ট তিন নিয়মে প্রিন্ট করা হয়। All, Current Page, Pages অপশনের মাধ্যমে।
  • Print Preview- সাবমেনুর মাধ্যমে কোনও ডকুমেন্ট প্রিন্ট করার পূর্বের অবস্থা দেখা যায।  (কিবোর্ডে সর্টকাট Ctrl+F2)
হোম/ Home Manu
  • Clipboard- সাবমেনুর কাজ গুরুত্বপূর্ণ যেমন- Cut, Copy, Paste. 
  • Font- Font: ইংরেজি ভাষা- Time New Roman & বাংলা ভাষা- SutonnyMJ. Font Size: ১২-১৪ অফিসিয়াল সাইজ।  Bold, Italic, Underline, Chang Case (Aa) ছোট হাতের থাকলে বড় হাতের করা হয়। Font Color: লেখা রঙিন করা হয়। Bullets: চিহ্ন দিয়ে লেখা হয় (♦→♣), Numbering: (123,i ii iii, Abc), 
  • Paragraph : সাবমেনু কাজ সমসুহঃ Left, Right, Center. LineSpacing: লাইন ফাকা করা হয়। Shading: লেখার পেছনে রঙিন কালার দেওয়া হয়। Border: টেবিল/ছকের বাউন্ডারি দেয়া হয় ও বাউন্ডারি সরিয়ে দেয়া হয়। 

ইনসার্ট/Insert Manu
  • Pages: মেনুর কাজ- Blank page- ডকুমেন্টের নিচে পেজ তৈরি করা হয়। 
  • Table: সাবমেনুর মাধ্যমে টেবিল/ছক তৈরি করা হয়। 
  • Picture: এর মাধ্যমে ছবি যুক্ত করা হয়।
  • Shapes: এর মাধ্যমে অঙ্কন করা হয়।
  • Header & Footer : এর মাধ্যমে ডকুমেন্টের মন্তব্য দেয়া হয় যেমন- পেজ নম্বর, তারিখ ও সময়।
  • Text Box : বক্সের মধ্যে লেখা হয়।
  • Quick parts, Eq, Equation Editor : এর মাধ্যমে গণিত সূত্র করা হয়।
  • WordArt: লেখা ডিজাইন করে লেখা হয়।
  • DropCap: লাইনের প্রথম অক্ষর বড় করা হয়।
  • Date & Time: ডকুমেন্টে তারিখ ও সময় দেয়া হয়। 
  • Symbol: এর মাধ্যমে চিহ্ন নেয়া হয় যেমন (♦→¢®©) ইত্যাদি।
পেজ লেআউট/Page Layout Manu
  • Margins : সাবমেনুর মাধ্যমে Page Setup করা হয়। 
  • Page Setup এর নিয়ম ৩টিঃ
  • ১. লম্বালম্বি Page Setup- Top = 1", Right = 0.5", Left = 1", Bottom = 0.5".
  • ২. আরাআরি Page Setup- Top = 0.5", Right = 0.5", Left = 0.5", Bottom = 0.5".
  • ৩. দলিল Page Setup- Top = 4", Right = 1", Left = 1", Bottom = 1".
  • Columns: এর মাধ্যমে ডকুমেন্টের পাতাকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়।
  • Page Color: ডকুমেন্ট রঙিন করা হয়।
  • Watermark: জলছাপ দেয়া হয়।
  • Page Borders: ডকুমেন্টে ডিজাইন করে বাউন্ডারি দেয়া হয় (Art) এর অপশনে গিয়ে।
মেইলিং/Mailings Manu
  • Envelopes : চিঠির খার তৈরি করা হয়।

রিভিউ/Review Manu
  • Spelling & Grammar : ইংরেজি সঠিক ওয়ার্ড খোজা হয়। 
  • Word Count : ডকুমেন্টের তথ্য দেখা হয়।
  • Protect document : পাসওয়ার্ড দেয়া হয়।
ভিউ/View Manu
  • Ruler : ডকুমেন্টে স্কেল দেয়া হয়। 
  • Zoom : ডকুমেন্ট ছোট বড় করা হয়। ডকুমেন্টের অরজিনাল ১০০%।
উপরের মেনুবার ও সাবমেনুবারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 

আপনি যদি মনযোগ দিয়ে পড়েন হবে সহজেই এমএস ওয়ার্ডের কাজ শিখতে পারবেন। 


শেষ কথাঃ

আমাদের এই ওয়েবসাইটে মাইক্রোসফট অফিস ওয়ার্ড সম্পন্ন টিউটরিয়াল উপস্থাপন করা হলো আপনি এটি অনুসরণ করে কাজ করতে পারবেন।

এই পোস্ট এর বিষয়ে আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে নিচে মন্তব্য বক্সের মাধ্যমে বলুন। 

আমাদের এই পোস্ট শেয়ার করুন ধন্যবাদ।

Post a Comment

0 Comments